সুখ এবং পরিবার

সুখ এবং পরিবার নিয়ে আজ অনেক অনলাইনে খোঁজাখুজি করার পর যা পেলাম,  আর নিজের অভিমত যুক্ত করে...
পরিবার হলো প্রতিটা মানুষের সবচাইতে শ্রেষ্ট বিদ্যাপীঠ।  আর সকল সুখের আধার। সমাজে সুখি পরিবারের চাইতে,  সুখহিন পরিবারের সংখ্যা বেশি।  এর কারণটা অবশ্য সহজ এবং দ্বিপ্তমান।
আসলে আজকের খোঁজাখুজিতে বেশি প্রধান্য দিয়েছিলাম শিশু বা পরিবারের সন্তাদের উপর। মা বাবা ভাল তাই বলে যে সব মা বাবাই ভাল তা না।  
আবার অনেক সময় দেখা যায় বাবা বা মা কেউ একজন কর্ক্রস থাকে,  কেউ একজন খুব ভাল।  যেমন আমার বাবার শাসন মা এর ভালবাসাতে পুষিয়ে নেওয়া যায়।  আবার বাবা সব সময় এমন না,  যে সব সময় শাসন করতে চায়। 
তো অনেক মা বাবাই আছে যারা তাদের সন্তানকে খুব শাসনে রাখতে চায়।  " বেশি আঁটে সুতা ছেঁড়ে যায় " বলে একটা কথা আছে।  অনেকের ক্ষেত্রে তা ই হয়।  অনেকের জন্য ভিন্ন। বেশি শাসনে কি হতে পারে?  
১. অতিরিক্ত শাসনের মধ্যে বড় হওয়া সন্তানেরা সাধরণত অনেক জেদি স্বভাবের হয়ে থাকে , আর এইটা তাদের চরিত্রের একতা বৈশিষ্ট্যা হয়ে যায়।
২. সন্তান সবসময় শাসনের মুখে থাকলে নিজেকে একলা ভাবে ও বিষণ্ণতায় ভোগে । এতে করে তারা মা-বাবার সাথে ভয়ে কথা বলা থেকেও নিজেকে বিরত রাখে । তাদের সামনে যাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখে ফলশ্রুতিতে তাদের ভুল পথে পা বাড়ানো বা ভুল সঙ্গের সার্নিধ্যের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
৩.  যেসব শিশুরা খুব ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের অতিরিক্ত কড়া শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে তাঁরা সাধারণত লেখাপড়ায় খারাপ হয়। আর এর পেছনের কারণ হলো কিছুতেই লেখাপড়ায় মন বসাতে পারে না এই শিশুরা। সারাক্ষণ আতঙ্ক ও হতাশার কারণে পড়ার টেবিলে বসে সারাদিন পড়লেও কিছু মনে রাখতে পারে না তাঁরা। আর আত্মবিশ্বাস কমে যায় বলে পরীক্ষার খাতাতেও ঠিক মত লিখতে পারে না এসব শিশু।
৪.  ক্রমাগত অতিরিক্ত শাসন সন্তানের মানসিক ভারসাম্যকে এলোমেলো করে দেয়। প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি সারা জীবনের জন্য সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।
৪. ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বা শাসনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে। 
৫. বিশেষ করে পিতা-মাতার সাথে সম্পর্কযুক্ত ভালোবাসার ক্ষমতা এবং পারষ্পরিক সংযুক্তি যা মানুষের জীবনে সুখের একটি দৃঢ় অবস্থার কথা বলে ।
হুম...  ৫ নং টা আমার মনের কথাটা বলে।  আসলেই তাই আমাদের জীবনের সবচাইতে বেশি সময় কাটাই পরিবারে আর সেটা মা বাবা জুড়ে পুরোটাই।  তো আমার মা বাবার সাথে থাকা সর্ম্পকই বলে দেয় আমি কতটা সুখি।  

একটা শিশু কখনও মা বাবাকে উপেক্ষা করতে চায় না কিন্তু কখনও তারা না পেরে সেটা করে।  

এর থেকে মুক্তি পেতে বাবার ভূমিকা বেশি যেহেতু আমরা পৃত্বিতান্ত্রিক সমাজের লোক।  কিন্তু বাবা যদি না বুঝে তাকে সেটা বুজানো মা এর কাজ।  মা সেটা না বুঝলে সন্তান মা কে সেটা বুঝানো হলো তার কাজ।  আর সন্তানরা মা এর সাথে খুব সহজে মিশতে পারে।  

প্রতিটা মানুষই চায় মুক্তির আনন্দ নিতে,  নিজেস্ব কিছু স্বাধীনতা পেতে।  তাহলে একটা শিশু নয় কেন?  একটা যুবক/যুবতী নয় কেন?  নয় কেন একটা কিশোর/কিশোরী? আমরা যেমন নিজের স্বাধীনতাকে ভালবাসি,  এবং সব সময় চাই তা হলে ওরা কি দোষ করলো।  ওদের বেলা কেন নয়?  ওদের সাথে আমরা কেন বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারি না।  ধর্ম কি এতে বাঁধা দেয়?  কখনও না।  
তা হলে আমরা কেন একটা শিশু/ কিশোর /কিশোরীর মন বাঙ্গছি?  এটা কি আমাদের পাপ নয়।
  
বাবা অনেক সময় চায় সন্তানকে লুকিয়ে ভালবাসতে কিন্তু সে হয়তো জানে না এতে তার সাথে সন্তানের কত বড় দূরত্ব তৈরি হয়। চায় বেশি শাসন করতে।  এটা কেন? শাসন করে কি নিজেকে সেকালের রাজা প্রমান করতে চাও?


একটা হিন্দি ভিডিওতে দেখেছিলাম যে " একটা মেয়েকে তার বাবা মা তাদের পচন্দ করা ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে,  কিন্তু মেয়েটা অন্য একটা ছেলেকে ভালবাসে।  তো নরমালি মেয়েটা পালিয়ে যায় বাসা থেকে এবং বন্ধু একজনের সাথে দেখা করে তাদের মাঝে কথোপকথন :-
১ম ঃ এই মা বাবা তোমাকে জন্মদিয়েছে তাদের তুমি কষ্ট দিবে?
মেয়েটি ঃ তার মানে কি?  মা বাবা জন্মদিয়ে লালন পালন করে বড় করেছে বলে, ওদের পচন্দের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে এই কষ্টের বদলা নিবে।  আমার মনে কষ্ট দিয়ে।
১ম ঃ এমনও তো হতে পারে যে তারা তোমার ভবিষ্যৎ এর ভাল হবে বলে এটা করতেছে! 
মেয়েটি ঃ ভাল থাকটা কি শুধু টাকা পয়সায়?  কি গ্যারান্টি আছে ওই ছেলেটির সাথে আমি ভবিষ্যৎ এ সুখি হবো।  " 
তারপর এই রকম অনেক কথা হয়।  কিন্তু আমার কাছে এটাই একটু বেশি মনে ধরেছে যে,  আসলে কি তাই?  বাবা মা তাদের পচন্দের ছেলে/মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে তাদের কষ্টের বদলা নেয়!  
ভাবতেও অবাক লাগে তা না হলে,  নিজের বুঝ বুঝতে পারা একটা ছেলে/মেয়ে কে কেন তার নিজের জীবনসঙ্গী বেঁচে নেওয়ার সুযোগ দেয় না?


পরে আরও হবে আজ আর না!!    

মন্তব্যসমূহ

সময়ের সেরা লেখার কানেকশন

বড় বোন

ভালবাসা