বড় বোন
বড় বোন সর্ম্পকটা খুবই নিকটের এবং অতি মমতা আর ভালবাসা দিয়ে ঘেরা। সবার জীবনটা একরকম হয় না। সৃষ্টিকর্তা হয়তো সবার কপালে এই মমতাময়ী মেয়ে/নারীর ভালবাসা কিংবা মিষ্টি শাসনটা দিয়ে দেন নি। অনেকেরই বোন নেই, তারা কিছুটা হলেও অভাগা একজন বোনের ছোট ভাই হিসাবে যা বুঝি।
যাহোক আমার কপালটা ভাল ছিলো, তাই দুইটা বড় বোন জুটেছে। সকল বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায় আমি অবুঝ থাকতে থাকতেই। অনেক বড় তাই উনার কাছ থেকে উপদেশ আর শাসন ছাড়া কিছুই পাই নি।
তবে দ্বিতীয় জন আমার বড় হলেও বেশী নয় ৫ বছরের বড়। আর জীবনের সবচাইতে বেশি পরিবারের যে সদস্যের সাথে সময় কাটিয়েছি তিনি এই বোন(মা এর পরের স্থান হবে ঠিক)।
মা-বাবা চাকরিজীবী। বাবা অামাদের গ্রাম থেকে দূরে চালরি করার সুবাদে সেখানেই থাকতে হতো। প্রতি সপ্তাহে আসতেন। আর আমরা মা এর সাথে থাকতাম। বাবাকে খুব ভয় পেতাম (এখনও) তবে মাকে খুব কমই ভয় পেতাম। এটা শুধু আমার মাঝে না, আমারা ভাই বোন সবার জন্য ই। মা প্রতিদিন চলে যেতেন তার কর্মক্ষেত্রে, ১২ টা তে স্কুল শেষ করে বাসায় ফিরতাম। একা একা বাসায় খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম। ঘুম বাঙ্গতো সেই বোনের স্কুল থেকে এসে দরজায় দাড়িয়ে ডাকাডাকিতে। ইচ্ছে করেই একটু লেট করে খুলতাম দরজা। এটা আসলে সবার রক্তের মধ্যে যেন মিশে আছে, বোনের সাথে ঝগড়া করতেই হয়। সুযোগ পেলেই হালকা পাতলা শাস্তি দিতে হয়। এই যেমনটা ইচ্ছে করে দরজা না খুলে দেওয়া। তারপর মা আসেন,খাওয়া দাওয়া, প্রার্থনা ও সন্ধ্যা হলেই পড়তে বসা। প্রথম প্রথম বোনের পাশেই বসতাম পড়াতে, অকারণে বই খাতা টানা টানি আর পড়াতে ডিস্টার্ব দেওয়ার জন্য আমার পড়ালেখার স্থান হয়ে যায় মা এর কাছে মানে রান্নাঘরে। রান্না করে করে মা পড়াতেন আর আমি একটু পর পর ঘুমাতাম। তবে তখনও বোনের সাথে লাগার সুযোগ ছাড়ি নি। যখনই বোনের রুম থেকে পড়ার শব্দ আসছে না, তখনই মা কে বলতাম মা দিদি পড়ছে না, মা দিদি বই রেখে খেলতেছে এই সেই কত রকম মিথ্যে কথা। আসলে বোনের প্রতি এই হিংসা (ভালবসাময়) যেন প্রতিটা ভাইয়ের জন্মগত অধিকার।
এভাবেই চলে যায় প্রাথমিক স্কুল জীবন তারপর আমি হাই স্কুলে আর বোন কলেজে। এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে পড়ে আমি ছোট, ছোট ভাই বলেও মাঝে মাঝে নিজের উপর রাগ হতো। এই সময়টা ছিলো আমার পচানি খাওয়ার সময়, তবে একটা দিক থেকে বেঁচে যেতাম, আমি বোনের চেয়ে সব সময় ভাল রিজাল্ট করতাম। মা বলতো ছেলেদের ব্রেইন উন্নত হয় তাই ছেলেরা ভাল রিজাল্ট করে। তাই বোনও বেঁচে যেতো। তবে এই সময়টাতে মা এর কাছে আমাকেই বকা শুনতে হয়েছে বেশি, মা এর সাথে রান্নায় সহযোগীতা করার সুবাদে আমার নামে অনেক বদনাম মা এর কাছে লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিলো। সে জন্য মা আমাকে বকা দিতো। আমি তখন পুরো অসহায় কিছুই করার ছিলো। শুধু শুধু বকা শুনে যেতাম।
তারপর এক বিরাট পরিবর্তন। তখন দশম শ্রেনীতে আমি, বোন ডিগ্রীতে। এখন আমার মাঝে পরিবর্তন চলে আসলো, তখন থেকে আর বড় বোনটি বড় রইলো না। আমি পুরুষ হয়ে গেছি আর বোনটি চাপা পড়ে গেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে। এখন বেশীরভাগ কাজেই আমার কথা মতো করতে হয়, এমনকি বাসায় আমার প্রাধানটা বেশি।তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে চাপা পরে এমনটা পুরো পুরি ঠিক নয় কারণ আমার বোন এখন নিজে থেকেই চায় আমার কমান্ড এ চলতে। সেটার একটা কারণ আছে। আমি দশম শ্রেণী থেকেই যেন একটা বুঝদার ছেলেতে পরিণত হয়েছি, সমাজ, আধুনিকতা, ভাল মন্দ সব কিছুই বোনের চাইতে ভাল করে বুঝতাম। যার জন্য আমাকে মেনে চলতো।
তবে আজ পর্যন্ত মা-বাবার কাছে কিছু চাওয়ার জন্য যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে এই বোনটি। বোনের কাছে বলে দিলেই হলো আমার কি চাই? সেটার ভাল দিক গুলো মার কাছে পুরাণ পুস্তকের মতো পাঠ করে করে আমার কাজ হাসিল করা উনার কাজ। এখনও ভাল করে একটা ডিসিশন একা নেয় নি বোন আমাকে একবার হলেও জানাবে, ভাল নাকি মন্দ করছে।
যে কোন উৎসবে আমার কি কি লাগবে সেগুলো মাকে বলা এখনও উনার দ্বায়িত্ব।
তারপর আমি কলেজে উঠলাম, শহরে চলে এলাম ওরা বাড়িতে। এখন আমি পুরো পুরি বড় হয়ে গেছি, স্বাধীনতা পেয়ে গেছি। তবে আমার বদ অভ্যাস ছিলো একটা এখনও আমি ফোনে কম কথা বলি। এতই কম যে দু তিন দিন পর পর বাড়িতে ফোন দিতাম। তখন আর বোনের কথা তেমন ভাবে জানা হতো না। হঠাৎ একদিন সকল বন্ধুদের সাথে শপিং এ যাই। সবাই নিজের শপিং সেরে বোনের জন্য কিছু না কিছু কিনতেছে। সে দিন আমার আর কিছু কেনা হলো না বোনের জন্য তবে একটা জিনিস আমার মাঝে হয়েছে। বোনের প্রতিও তো আমার একটা দায়িত্ববোদ রয়েছে, সেটা জাগ্রত হয়েছে। তারপর নিজে থেকেই কেনা শুরু করি বোনের জন্য, নিজের হাতে থাকা দামী স্মার্ট ফোনটাও দিয়ে দেই বোনকে। কারণ বোন কখনও আমাকে বলো নি ফোনটা দিতে, তবে একদিন বলেছিলো কলেজের সকল বান্ধবীরা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। তখন থেকে অনেক কিছুই দিয়েছি। তারপর থেকে যেন আমার কাছে কিছু না কিছু আবদার করার সুযোগ পেতো, আমিও সাদ্য মতো দেওয়ার চেষ্টা করি। আর আস্তে আস্তে বুঝতে পারি প্রতিটা বোনই তাদের ভাইকে তাদের সর্বোত্তম আস্তা মনেকরে।
তবে মাঝে মাঝে মনে হয় বড় বোন আমার, আমাকে শাসন করুক, কড়া কড়া কথা বলুক, বকা দেক। কিন্তু আমার বোন এখনও তা করেনি। মাঝে মাঝে রেগে গেলে কথা বলতো না ৪-৫ ঘন্টা তারপর আবার ঠিক হয়ে যেতো। আর এখন নিজে যখন হঠাৎ বোনকে শাসনের সুরে কিছু বলি বা শাসনই করি, বা নিজেকে বড় মানাই। তখন মনে মনে ভাবি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাহিরে বেরুতে পারলাম না আমিও।
যা হোক ভাই বোনের এই সর্ম্পকটা অতলস্পর্শ কারী,আর আপনি মানুন আর নাই মানুন, একজন বড় বোন আপনার সর্বপ্রথম বন্ধু এবং সব চাইতে ভালো বন্ধুটির পদে বসে আছেন। কারণ তিনি মৃত্যু পর্যন্ত আপনার সাথে যেমন আছেন তেমনই থাকবেন।
যাহোক আমার কপালটা ভাল ছিলো, তাই দুইটা বড় বোন জুটেছে। সকল বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায় আমি অবুঝ থাকতে থাকতেই। অনেক বড় তাই উনার কাছ থেকে উপদেশ আর শাসন ছাড়া কিছুই পাই নি।
তবে দ্বিতীয় জন আমার বড় হলেও বেশী নয় ৫ বছরের বড়। আর জীবনের সবচাইতে বেশি পরিবারের যে সদস্যের সাথে সময় কাটিয়েছি তিনি এই বোন(মা এর পরের স্থান হবে ঠিক)।
মা-বাবা চাকরিজীবী। বাবা অামাদের গ্রাম থেকে দূরে চালরি করার সুবাদে সেখানেই থাকতে হতো। প্রতি সপ্তাহে আসতেন। আর আমরা মা এর সাথে থাকতাম। বাবাকে খুব ভয় পেতাম (এখনও) তবে মাকে খুব কমই ভয় পেতাম। এটা শুধু আমার মাঝে না, আমারা ভাই বোন সবার জন্য ই। মা প্রতিদিন চলে যেতেন তার কর্মক্ষেত্রে, ১২ টা তে স্কুল শেষ করে বাসায় ফিরতাম। একা একা বাসায় খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম। ঘুম বাঙ্গতো সেই বোনের স্কুল থেকে এসে দরজায় দাড়িয়ে ডাকাডাকিতে। ইচ্ছে করেই একটু লেট করে খুলতাম দরজা। এটা আসলে সবার রক্তের মধ্যে যেন মিশে আছে, বোনের সাথে ঝগড়া করতেই হয়। সুযোগ পেলেই হালকা পাতলা শাস্তি দিতে হয়। এই যেমনটা ইচ্ছে করে দরজা না খুলে দেওয়া। তারপর মা আসেন,খাওয়া দাওয়া, প্রার্থনা ও সন্ধ্যা হলেই পড়তে বসা। প্রথম প্রথম বোনের পাশেই বসতাম পড়াতে, অকারণে বই খাতা টানা টানি আর পড়াতে ডিস্টার্ব দেওয়ার জন্য আমার পড়ালেখার স্থান হয়ে যায় মা এর কাছে মানে রান্নাঘরে। রান্না করে করে মা পড়াতেন আর আমি একটু পর পর ঘুমাতাম। তবে তখনও বোনের সাথে লাগার সুযোগ ছাড়ি নি। যখনই বোনের রুম থেকে পড়ার শব্দ আসছে না, তখনই মা কে বলতাম মা দিদি পড়ছে না, মা দিদি বই রেখে খেলতেছে এই সেই কত রকম মিথ্যে কথা। আসলে বোনের প্রতি এই হিংসা (ভালবসাময়) যেন প্রতিটা ভাইয়ের জন্মগত অধিকার।
এভাবেই চলে যায় প্রাথমিক স্কুল জীবন তারপর আমি হাই স্কুলে আর বোন কলেজে। এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে পড়ে আমি ছোট, ছোট ভাই বলেও মাঝে মাঝে নিজের উপর রাগ হতো। এই সময়টা ছিলো আমার পচানি খাওয়ার সময়, তবে একটা দিক থেকে বেঁচে যেতাম, আমি বোনের চেয়ে সব সময় ভাল রিজাল্ট করতাম। মা বলতো ছেলেদের ব্রেইন উন্নত হয় তাই ছেলেরা ভাল রিজাল্ট করে। তাই বোনও বেঁচে যেতো। তবে এই সময়টাতে মা এর কাছে আমাকেই বকা শুনতে হয়েছে বেশি, মা এর সাথে রান্নায় সহযোগীতা করার সুবাদে আমার নামে অনেক বদনাম মা এর কাছে লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিলো। সে জন্য মা আমাকে বকা দিতো। আমি তখন পুরো অসহায় কিছুই করার ছিলো। শুধু শুধু বকা শুনে যেতাম।
তারপর এক বিরাট পরিবর্তন। তখন দশম শ্রেনীতে আমি, বোন ডিগ্রীতে। এখন আমার মাঝে পরিবর্তন চলে আসলো, তখন থেকে আর বড় বোনটি বড় রইলো না। আমি পুরুষ হয়ে গেছি আর বোনটি চাপা পড়ে গেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে। এখন বেশীরভাগ কাজেই আমার কথা মতো করতে হয়, এমনকি বাসায় আমার প্রাধানটা বেশি।তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে চাপা পরে এমনটা পুরো পুরি ঠিক নয় কারণ আমার বোন এখন নিজে থেকেই চায় আমার কমান্ড এ চলতে। সেটার একটা কারণ আছে। আমি দশম শ্রেণী থেকেই যেন একটা বুঝদার ছেলেতে পরিণত হয়েছি, সমাজ, আধুনিকতা, ভাল মন্দ সব কিছুই বোনের চাইতে ভাল করে বুঝতাম। যার জন্য আমাকে মেনে চলতো।
তবে আজ পর্যন্ত মা-বাবার কাছে কিছু চাওয়ার জন্য যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে এই বোনটি। বোনের কাছে বলে দিলেই হলো আমার কি চাই? সেটার ভাল দিক গুলো মার কাছে পুরাণ পুস্তকের মতো পাঠ করে করে আমার কাজ হাসিল করা উনার কাজ। এখনও ভাল করে একটা ডিসিশন একা নেয় নি বোন আমাকে একবার হলেও জানাবে, ভাল নাকি মন্দ করছে।
যে কোন উৎসবে আমার কি কি লাগবে সেগুলো মাকে বলা এখনও উনার দ্বায়িত্ব।
তারপর আমি কলেজে উঠলাম, শহরে চলে এলাম ওরা বাড়িতে। এখন আমি পুরো পুরি বড় হয়ে গেছি, স্বাধীনতা পেয়ে গেছি। তবে আমার বদ অভ্যাস ছিলো একটা এখনও আমি ফোনে কম কথা বলি। এতই কম যে দু তিন দিন পর পর বাড়িতে ফোন দিতাম। তখন আর বোনের কথা তেমন ভাবে জানা হতো না। হঠাৎ একদিন সকল বন্ধুদের সাথে শপিং এ যাই। সবাই নিজের শপিং সেরে বোনের জন্য কিছু না কিছু কিনতেছে। সে দিন আমার আর কিছু কেনা হলো না বোনের জন্য তবে একটা জিনিস আমার মাঝে হয়েছে। বোনের প্রতিও তো আমার একটা দায়িত্ববোদ রয়েছে, সেটা জাগ্রত হয়েছে। তারপর নিজে থেকেই কেনা শুরু করি বোনের জন্য, নিজের হাতে থাকা দামী স্মার্ট ফোনটাও দিয়ে দেই বোনকে। কারণ বোন কখনও আমাকে বলো নি ফোনটা দিতে, তবে একদিন বলেছিলো কলেজের সকল বান্ধবীরা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। তখন থেকে অনেক কিছুই দিয়েছি। তারপর থেকে যেন আমার কাছে কিছু না কিছু আবদার করার সুযোগ পেতো, আমিও সাদ্য মতো দেওয়ার চেষ্টা করি। আর আস্তে আস্তে বুঝতে পারি প্রতিটা বোনই তাদের ভাইকে তাদের সর্বোত্তম আস্তা মনেকরে।
তবে মাঝে মাঝে মনে হয় বড় বোন আমার, আমাকে শাসন করুক, কড়া কড়া কথা বলুক, বকা দেক। কিন্তু আমার বোন এখনও তা করেনি। মাঝে মাঝে রেগে গেলে কথা বলতো না ৪-৫ ঘন্টা তারপর আবার ঠিক হয়ে যেতো। আর এখন নিজে যখন হঠাৎ বোনকে শাসনের সুরে কিছু বলি বা শাসনই করি, বা নিজেকে বড় মানাই। তখন মনে মনে ভাবি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাহিরে বেরুতে পারলাম না আমিও।
যা হোক ভাই বোনের এই সর্ম্পকটা অতলস্পর্শ কারী,আর আপনি মানুন আর নাই মানুন, একজন বড় বোন আপনার সর্বপ্রথম বন্ধু এবং সব চাইতে ভালো বন্ধুটির পদে বসে আছেন। কারণ তিনি মৃত্যু পর্যন্ত আপনার সাথে যেমন আছেন তেমনই থাকবেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন